রেজিস্টরের কালার কোড থেকে রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করার নিয়ম

ইলেক্ট্রনিক্স জগতের সাথে সম্পর্ক আছে অথচ রেজিস্টর (Resistor) এর নাম শুনে নি এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। ইলেক্ট্রনিক্সের এই বিশাল জগতকে যে কম্পোনেন্টগুলো সৌন্দর্যমন্ডিত ও সহজ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো রেজিস্টর। আশা করছি আপনারা সবাই রেজিস্টর সম্পর্কে জানেন। তবে যেহেতু রেজিস্টর নিয়েই কথা বলছি তাই নিয়ম রক্ষার খাতিরে আসুন আরেকবার জেনে নেই রেজিস্টার কি?

রেজিস্টর (Resistor) কি?

রেজিস্টর শব্দের অর্থ হলো রোধ। বুজতেই পারছেন নিশ্চয় এই কম্পোনেন্টটির কাজ হলো কোন কিছু রোধ করা। ঠিকই ধরেছেনে, এটাই সত্যি। পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। অর্থ্যাৎ আমরা বুজতে পারলাম যে রেজিস্টর হলো একটি সাধারণ পরিবাহীর মতোই। কিন্তু এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মধ্যে দিয়ে যখন বিদ্যুৎ চলাচল করে তখন ইলেক্ট্রন বাধাগ্রস্থ হয়। এর এই ধর্মকেই রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। আসুন একটি রেজিস্টরের কিছু ছবি দেখে নেই।

Resistor
একটি রেজিস্টর
Resistor in a circuit
সার্কিটে রেজিস্টরের ব্যবহার
Resistor internal structure and architecture
একটি রেজিস্টরের অভ্যন্তরীণ গঠন

রেজিস্টরের কাজ এবং গঠনের উপর ভিত্তি করে এগুলো নানা রকম হয়ে থাকে। যেহেতু আমরা আজ রেজিস্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো না তাই সে বিষয়ে কিছু লিখছি না। আমরা রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স নিয়ে কথা বলবো। প্রায় সব রেজিস্টর গুলোই দেখতে একইরকমের হলেও এদের মান কিন্তু বিভিন্ন রকম। মান বলতে কোন রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স কেমন সেটাকে বুজাচ্ছি। রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স পরিমাপের একক হলো ওহম (Ω)। আর এক হাজার ওহম কে বলা হয়ে তাকে এক কিলো ওহম। সার্কিট এবং কাজের ধরন অনুযায়ী আমাদের এক একসময় এক এক রকম রেজিস্টরের প্রয়োজন হয়। প্রায় একইরকম দেখতে রেজিস্টর গুলোকে দেখে সহজে পার্থক্য করা যায় না কোন রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স কত। কারণ রেজিস্টর গুলো এত ছোট হয়ে থাকে যে এদের গায়ে এর ভ্যালু লিখা একটু কষ্টকর হয়ে যায়। এর পরিবর্তে রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ কালার কোড। আজকের এই পোস্টটি মূলত কালার কোড দেখে রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করার পদ্ধতি সম্পর্কেই।

পূর্বেই আমরা রেজিস্টরের ছবি দেখেছি। সেখানে দেখেছি এদের গায়ে কিছু কালার ব্যান্ড থাকে। এই কালার ব্যান্ডগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই যে কোন রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স জানা সম্ভব। সাধারণত রেজিস্টর গুলোতে ৪টি অথবা ৫ টি কালার ব্যান্ড থাকে। তবে ৬ ব্যান্ডের রেজিস্টরও হয়ে থাকে। সবগুলোর ক্ষেত্রেই নিয়ম প্রায় একইরকম। আসুন আমরা প্রথমে ৪ ব্যান্ডের রেজিস্টরের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলি।

রেজিস্টরের গায়ে মোট ১২ রকম কালার ব্যান্ড দেখা যায়। এই প্রতিটি কালারেরই একটি নাম্বার রয়েছে। আসুন দেখে নেই কোন কালারের নাম্বার কত।

resistor color code chart

৪ ব্যান্ডের রেজিস্টরের ক্ষেত্রে তিনটি ব্যান্ড রেজিস্টরের মান প্রকাশ করে এবং ৪র্থ ব্যান্ডটি রেজিস্টরের টলারেন্স ভ্যালুকে বুজায়। টলারেন্স ভ্যালু কি সেটা নিয়ে একটু পরে বলছি। সাধারণত সোনালী (Gold) এবং রুপালী (Silver) কালার ব্যান্ড ব্যবহার করেই রেজিস্টরের টলারেন্স ভ্যালু প্রকাশ করা হয়। তাই কোন রেজিস্টরের গায়ে এই দুই কালারের যে কোন একটি কালার থাকলে সে ব্যান্ডকে আমরা ৪র্থ ব্যান্ড হিসেবে ধরবো। অর্থ্যাৎ কালার ব্যান্ডের সিরিয়াল হবে ৪র্থ ব্যান্ড যে প্রান্তে আছে তার বিপরীত প্রান্ত থেকে। ৪র্থ কালার ব্যান্ড যেখানে আছে তার বিপরীত প্রান্ত থেকে আমাদের ১ম, ২য় ও ৩য় কালার ব্যান্ড গুলো কি সেটা দেখতে হবে। এবার ১ম ও ২য় কালার ব্যান্ডের মানকে পাশাপাশি লিখতে হবে। এরপর ৩য় কালার ব্যান্ডের মান কত তা দেখতে হবে। ৩য় কালার ব্যান্ডের মান যত ততগুলো শূন্য আমরা একটু আগে ১ম ও ২য় কালার ব্যান্ডের মান পাশাপাশি লিখে যে সংখ্যা পেয়েছি তার গায়ে লিখবো। এখন একটি কথা বলে রাখি তা হলো যদি ৩য় কালার ব্যান্ডের মান শুন্য হয় তাহলে কোন শূন্য বসাতে হবে না। আমি একটা উদাহরণ দিয়ে পুরো বিষয়টি বুজিয়ে দিচ্ছি। ধরে নিলাম, আমরা নিচের ছবিতে দেয়া রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করতে চাচ্ছি।

4 band resistor color code

ছবি তে দেয়া রেজিস্টরের ৪টি কালার ব্যান্ডের মধ্যে একটি সোনালী কালারের ব্যান্ড আছে। তার মানে বুজাই যাচ্ছে এটি ৪র্থ কালার ব্যান্ড যেটি রেজিস্টরের টলারেন্স ভ্যালু প্রকাশ করে। তার মানে আমরা বিপরীত প্রান্ত থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় ব্যান্ড হিসাব করবো। এখন দেখুন এই রেজিস্টরের ১ম ব্যান্ডের কালার হলো হলুদ যার মান হলো ৪। রেজিস্টরের ২য় ব্যান্ডটির কালার হলো বেগুনী যার মান হলো ৭। রেজিস্টরের ৩য় ব্যান্ডটি হলো লাল যার মান হলো ২। এখন ১ম ও ২য় ব্যান্ডের মানকে পাশাপাশি বসালে আমরা পাই ৪৭। এবার ৩য় ব্যান্ডটির মান যেহেতু ২ তাই আমরা ৪৭ এর সাথে ২টি শূন্য বসাবো। তাহলে সংখ্যাটি দাঁড়াবে ৪৭০০। এটাই হলো আমাদের রেজিস্টরের ভ্যালু। অর্থ্যাৎ আমাদের ছবিতে দেখানো রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স হলো ৪৭০০ ওহম বা ৪.৭ কিলো ওহম।

এবার আসি টলারেন্স ভ্যালু নিয়ে। দেখুন আমরা জানি যে রেজিস্টরের একটি ফিক্সড মান থাকলে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে (যেমন: তাপমাত্রা) এর রেজিস্ট্যান্সের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। একটি রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স কতটুকু বাড়ার বা কমার সম্ভাবনা আছে তাই হলো তার টলারেন্স। টলারেন্স প্রকাশ করার জন্য সোনালী এবং রুপালী এ দুটি কালার ব্যান্ড হয়ে থাকে আমরা আগেই জেনেছি। যদি সোনালী কালার ব্যান্ড দেয়া থাকে তাহলে রেজিস্টরের যে মান হয় তার থেকে ৫% কম বা বেশি হতে পারে এটা বুজায়। আর যদি রুপালী কালার ব্যান্ড দেয়া থাকে তাহলে বুজতে হবে রেজিস্টরের যে মান তার থেকে ১০% কম বা বেশি হতে পারে। যেমন আমরা একটু আগে যে রেজিস্টরের মান বের করলাম ৪৭০০ ওহম তার টলারেন্স কালার ব্যান্ড হলো সোনালী। অতএব ৪৭০০ এর ৫% অর্থ্যাৎ ২৩৫ ওহম কম বা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভাবেই ৪ ব্যান্ডের রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করতে হয়।

এবার আসুন ৫ ব্যান্ডের ক্ষেত্রে নিয়মটা জেনে নিই। ৫ ব্যান্ডের ক্ষেত্রেও নিয়মটা প্রায় একইরকম। ৫ম ব্যান্ডটি রেজিস্টরের টলারেন্স ভ্যালু প্রকাশ করে। টলারেন্স কিভাবে বের করেতে হয় তা তো বললামই একটু আগে। এবার আসি বাকি ৪টি ব্যান্ড নিয়ে। এখানে ১ম, ২য় ও ৩য় ব্যান্ডের মানকে পাশাপাশি লিখতে হবে। এরপর ৪র্থ ব্যান্ডের মান যত ততগুলো শুন্য বসালে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে সেটাই হলো ওই রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স। বুজতেই পারছেন যে এটা একদম প্রায় ৪ কালার ব্যান্ডের রেজিস্টরের মতোই।

বন্ধুরা আশা করছি রেজিস্টরের কালার ব্যান্ড দেখে এর রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করার পদ্ধতি সম্পর্কিত আজকের এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনাদের বুজার সুবিধার জন্য আমি একটি ভিডিও টিউটোরিয়ালও দিয়ে দিলাম। ভিডিওতে আমি প্র্যাকটিক্যালি কিভাবে রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করবেন তা দেখানোর চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনাদের কাজে লাগবে।

তো বন্ধুরা আজ এখানেই শেষ করছি। পোস্টটি কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ক আরো নানা রকম আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটের ইলেক্ট্রনিক্স ক্যাটাগরিটি ভিজিট করুন। নতুন পোস্টে ইনশাআল্লাহ নতুন কোন বিষয় নিয়ে লিখবো। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

Resistor is one of the important component of an electric circuit. You can not imagine a circuit without this. In this article i have tried to explain that how to calculate the resistance of a resistor using it’s color code. Resistor Color Code is one of the best and easy way to find out the value of a resistor. I hope this article will be very helpful for those who wants to know how to measure the resistance of a resistor using color code. If you have any question about this article feel free to comment.

Facebook Comments

Share This Post

One Response to "রেজিস্টরের কালার কোড থেকে রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করার নিয়ম"

Post Comment